(শীত এসেছে)
.....................পর্বঃ৬১
শীত এসেছে...
কুয়াশায় ভেজাবে বলে।
সাদা ধুম্রজালে জড়িয়ে
শিশিরের স্পর্শ দিতে।
শীত এসেছে..
ঝরা পাতা ঝরে গিয়ে,
সবুজ কচিদের প্রানবন্ত করতে।
শীত এসেছে...
পিঠা পুলির ধুমধামে মেতে উঠতে,
আপনজনদের মাঝে খুশি বিলাতে।
শীত এসেছে...
বুনোফুল, ঘাসফুলে সজীবতা দিতে।
শিশির মাখা শুভ্র শুভেচ্ছা প্রিয়জনকে দিতে।
শীত এসেছে...
'মানুষ' হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে উৎসাহিত করতে।
বঞ্চিত আর অসহায়দের শীতের কাপড়ের মতই কাছে টানতে।
শীত এসেছে...
আবার চলেও যাবে!
আমার মাঝে কতটা 'মানুষ' সেটা জেনে নিয়ে।
----------------------------------------------
একসাথে,একই পথে
মরু কিংবা সাগর পাড়ি দিয়ে;
ওপারের পৃথিবীর কিছু সগন্ধ পবন এখানে নিয়ে আসবো।
ওই পৃথিবীরর শান্তির বীজ এখানের মাটিতে রোপন করবো।
একসাথে, একইমতে
যন্ত্রনার কীট সরিয়ে;
এ মাটির উর্বরতা ফিরিয়ে আনবো।
লালিত স্বপ্নকে বাস্তবের সিড়িতে দাঁড় করাবো।
একসাথে, এক মুঠোতে অসংখ্য হাতের বন্ধন..
জোড়ালো করে বন্ধুরতা পেরিয়ে সামনে দেখবো ;
হাজারো তীরের কষ্ট সইবো।
বুকের রক্তে একটিই নাম লিখবো।
একসাথে, সহস্র চোখের একটিই স্বপ্নালক্ষ্য নিয়ে..
পথের এ ধারে দাঁড়িয়েই রবো!
অসংখ্য বাজপাখির ঠোট হতে স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিবো।
একসাথে, কোটি হৃদয়ের রক্তের একটি সমূদ্রে...
সত্য, ন্যায় আর অধিকারের স্রোত বয়ে দিবো।
প্রয়োজনে!
একসাথে, একই আবেশে ঘুম গিয়ে..
লাল সবুজের পতাকা হবো।
তবুও একটিই নাম লিখবো 'বাংলাদেশ'।
----------------------------------------
তুমি কি জান?
এখানে তোমার কাজ এখনো শেষ হয়নি।
'ভালো আছো' তোমার মতো করে,
যখন যেরকম ইচ্ছে সেভাবেই রঙ মাখো
যত্রতত্র ;
এটা কখনোই হতে পারেনা তোমার বৈশিষ্ট্য।
তুমি ভালোবাসো আকাশ, মাটি, গোধূলি, প্রকৃতির সবুজরাশি।
তবে মানুষকে নয় কেন?
মানবিক হয়েও অমানবিকের চাদরে খুব বেশি ঘুমের গাঢ়ত্ব।
এখন এমন কি হলো?
চিন্তায় দোদুল হয়ে অসহনীয় শব্দে 'মানবিক' হবার এ কেমন প্রয়াস!
দায়ভার আমরা কেউ এড়াতে পারিনা..চাইলেও না,
এটাই প্রকৃতির নিয়ম!
তাহলে এসব গঠন কথা, ভালোবাসা, শব্দে শব্দে নিজেকে হারিয়ে ফেলা দায়ভার এড়ানোর জন্যই কি???
----------------------------------------------
ঝরা পাতার মর্মর শব্দ শুনে আর চারদিকে কুয়াশার সাদা চাদর দেখে বুঝতে পারি আমাদের মাঝে শীত সমাগত। আমরাও খুব খুশি আর উৎফুল্লতারর সহিত শীতকে বরণ করে নিচ্ছি। শীতকে কেন্দ্র করে গ্রামে এক উৎসব মুখোর পরিবেশ বিরাজ করে। আগুনের কুন্ডলীর পাশে লোকজনের সমাগম, আড্ডা, শীতের রাতে বনভোজন, নদীতে রাত জেগে মাছ ধরা, পিঠা বানানোর ধুম। ইত্যাদি। গ্রামের তুলনায় শহরের চিত্র অন্যরকম, যান্ত্রিকতা পিছু ছাড়েনা কখনোই।
এ তো গেলো শীতকে ঘীরে আমাদের আবেগ, অনুভুতি, আবেশের কথা। যদি একটু সচেতন দৃষ্টি মেলে দেখি! দেখা যাবে আমাদের চারপাশের, কাছের মানুষেরাই শীতকে আমাদের মতো আবেশে বরণ করতে পারেনা। এ দেশের একটা উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী ভাসমান এবং দারিদ্র সীমার নিচে বাস করে, যারা নিয়মিত খাবার পায়না, কর্মসংস্থান ও চিকিৎসার সুবিধা পায়না। তারা কিভাবে শীত বা অন্য ঋতু বরণ করবে??
অথচ একটা গোষ্ঠীর দিকে তাকালে দৃষ্টিতে তাদের বিত্ত বৈভবের জৌলুসই দেখতে পাই। প্রত্যেক দিবস, উৎসব, ঋতু যাই বরণ করি তাতেই তাদের উপস্থিতি রমরমা।
আমরা যদি একটু মানবিক হতাম, তবে কতইনা সুন্দর হত। না খেয়ে থাকা মানুষের মুখে দু মুঠো তুলে দেয়াতেই যে সুখের উৎস লুকায়িত!
তাই বলি..শীতকে বরণের পাশাপাশি বঞ্চিত মানুষগুলোর কষ্টকে বরণ করে আমরাই পারি তাদের মুখে হাসি ফোটাতে।
যদিও অনেক ব্যক্তি, কিছু সংগঠন শীতে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়াস চালায়। তবে তাদের একার পক্ষে সম্ভব না। যদি আমরা সবাই সবার সামর্থানুযায়ী পাশে দাঁড়াই, তাহলে এ অসহায়দের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে।
---------------------------------------------------
হোক তবে সেই গান!
আবার বেজে উঠুক সেই সঙ্গীত।
যার তাল,লয়ের তীব্রতায় ঘুমন্ত..
একবারে নিশ্চল বিবেক জেগে উঠবে।
আমাদের রক্ত নেচে উঠুক, স্বপ্ন জাগানিয়া সঙ্গীতের ইনজেকশনে।
যে সঙ্গীতের প্রতিটা শব্দে নতুন পৃথিবীর রুপায়ন দেখবে এখানের মানুষ।
ন্যায়ের গলায় অন্যায়ের পুতি ঝুলিয়ে
তারা আর কীর্তন করবেনা।
ভয়ে বসে থাকবেনা ঘরের কোনে!
নতুন পৃথিবী রচনের জন্য মাঠে নামবে লাঙল কাঁধে।
আর সেই সঙ্গীত গাইবে..
যাতে মনুষত্য আবার ঘুমিয়ে না পড়ে??
চিল, শকুনেরা যেন সুযোগ না পায়,
অংকুরিত ফসল নষ্ট করতে।
হোক তবে সেই গান!
আবার বেজে উঠুক সেই সঙ্গীত।
আমরা জেগে উঠি ঘুমের দুঃস্বপ্ন থেকে,
বাস্তবের দুঃস্বপ্নকে গলা টিপতে।
অন্তত একটু কথা বলা শিখি!
কিংবা প্রতিবাদী ইশারা!
একটু কলম ধরতে!
---------------------------------------
মৃত্যু!
এইতো আমার একদম পাশে।
ছুঁতে গিয়েও ছোঁয়না! আমাকে সুযোগ দেয়,
বিবর্ণতায় রঙ লাগাতে!
বুনো পথে বিষ কাটা সরিয়ে, ফুলের গাছ লাগাতে।
মৃত্যুর সাথে আমিও খেলি..
সুযোগ পেয়ে আরও কিছু বিবর্ণতা ধার নেই সময়ের কাছে।
হাসি, অভিনয়ের মধ্য দিয়ে
ঝকমকে তিমিরের শাড়ি জড়িয়ে!
চলে এসেছি মৃত্যুর নিশ্বাসের বিন্দুতে।
আমি আবার সুযোগের আশায় তাকিয়ে আছি,
আর অংক মেলাই। কতগুলো সুযোগের বোতল নিজ হাতে ভেঙেছি?
নেশায় মত্ত হয়ে ভঙ্গুর কাঁচকে মুক্তো ভেবেছি,
হাত কেটে অরুন রক্তকে বলেছি এইতো অর্জন!
মৃত্যুর কোন রুপ নেই!
কোন গন্ধ নেই!
তবুও মৃত্যু আসে...
গুটি গুটি পায় একদমই কাছে।
জড়িয়ে নেয়
মানুষের অর্জনের রুপ দেখে।
ভালোবেসে অথবা ঘৃনা নিয়ে।
------------------------------------------
আজকের সময়ে...
আত্মসম্মান আর বিবেকবোধ হয়েছে আত্মপ্রবঞ্চনায় রুপায়িত।
নিরাভরণ মনের উঠোনে প্রদীপ নির্বাপিত হয়েছে,
সেইদিন থেকে -যেদিন আলোতে বিরক্ত হয়ে 'আত্মা' মেতেছে আলুথালু অস্থায়ীতে।
এখন আমরা নিজেকে প্রবঞ্চনা দেই,
এই বলে..সব ঠিক হয়ে যাবে, সামনেই ঝলমলে দিন!
পরিণতিবিহীন কথায় শুধুই সময়ের অপচয়,
আর আগত প্রজন্মের জন্য খনন করছি গহীন খাদ!
ওরা খাদে পড়ে আর্ত্নচিৎকারে আমাদের মরা 'আত্মায়' অভিশাপ সিঞ্চন করবে।
হায়!
যদি প্রবঞ্চনার সমস্ত তাজ খুলে,
পাঁজরে লুকায়িত পরম্পরায়িত গাদ্দারি আগুনে পুড়িয়ে,
নেহায়েতই থুকথুকে আনন্দে পানি ঢেলে
পবিত্র হতে পারতাম!
তবে প্রবঞ্চনার মঞ্চে আমাদের থাকতে হতোনা,
করতে হতোনা কারো পদলেহন।
আমরা এখনো কমজোর ঈমান নিয়ে বড়াই করি;
আর আত্মার সওদা করে ভাবি আমি আমরাই সুখি।
আগত, অনাগত প্রজন্মের জন্য তৈরি করছি সুসরম্য পৃথিবী।
হায়!
আমাদের বোকামি!
লোভে পড়ে বেছে নিয়েছি গোলামি।
'ওদের' ;পুতুল হয়ে নিজেরাই করি রেষারেষি।
আত্মমর্যাদা, গৌরবের পোশাক খুলে মর্যাদাহানিতে আজ সুখ খুঁজি।
.
.
(ভবিতব্য জানালায় অতীত)
----------------------------------------
অবারিত আলো আসবে,
লুটিয়ে হাসবে সব কটা ইন্দ্রিয়।
যদি উত্তাল ঢেউয়ে গতি ফিরে আসে।
বিনয়ে লুটিয়ে পড়বে
অন্ধকারের জালক ভেদ করে।
ঝড় শেষে লুটিত ঘাস সজিবতা পেলে।
কাব্য ও কবিত্বের মরচে খসে পড়বে,
অশান্ত আত্মারা প্রশান্ত হবে;
শয়তানি হাসিতে আগুন ঢেলে পড়বে।
যখন মুঠো মুঠো পবিত্র আলোয় বক্ষ পূর্ণ হবে,
ঘুম আর জাগরণে ইনসাফের মিছিল জোড়ালো হবে।
রক্ত চক্ষুর অনল বৃষ্টি
কিংবা ভেতরের বেঈমান!
থেমে যাবে, মানুষ হবে।
মানবতা হবে না যাযাবর
মনুষ্যত্যের নৌকায় যদি ওঠে পাল।
সমস্বরে গায়িত হবে মানবতার গান।
-------------------------------------------
(দ্রোহ)
ইয়াসমিন.
.
.
..ছড়িয়ে পড়ুক সত্য আর মুক্তির দাবানল,
ভষ্মিত করুক আমাকে, আমার অন্তরাত্মাকে।
আজন্ম লালিত,পুষিত কিংবা সদ্য প্রবেশিত মিথ্যার প্রহেলিকা জ্বলুক;
দাবানলের এক চিলতে বহ্নিতে।
আমাতেই হয়েছিলো 'আত্মা' পঁচনের সূচন!
রচনা করেছিলাম রক্তশূন্য 'আত্মার' সাতকাহন।
মরিচীকার প্রহেলিকায় চোখ ধাঁধিয়ে,
কানামাছি খেলা খেলে;
'পঁচা আত্মার' রাজ তৈরি করেছিলাম এখানের জমিনে।
তাই মানবাত্মা পঁচনের গন্ধে দূষিত হয়েছে বাতাস,
নিশ্বাসে নিশ্বাসে আজ বিশ্বাসঘাতকতার বাস।
পবিত্র অপবিত্র বলে এখানে কিছু নেই,
সব এক একাকার, নিটল বিশ্বাসে আজ কুফরির দাগ।
রক্তের ফোটায় ফোটায় সমস্ত 'পঁচা' আত্মা খেলা করে,
আমার হাতেই তাদের জীবন অংকুর গজেয়েছিলো বলে।
সময়ের ধারালো পাশে প্রচন্ড এক হোঁচট খেয়েছি,
আবছা আলোয় বুঝতে পেরেছি;
আত্মার জাগরণেই হবে হয়তো মুক্তি।
কিন্তু আমার আত্মায় কবেই বিশ্বাসঘাতকতা ঢেলেছি!
গলা টিপে হত্যা করেছি কত আত্মার দাবানল।
সময়ের অন্তিমে কি করে করবো আত্মাগুলোয় শুদ্ধতা দান?
তাই সময়ের দাবী এখন...
খুবই প্রয়োজন এ বিশ্বাসঘাতক আত্মার শিহরিত মরণ।
----------------------------------------
হৃদয় নামক মাংসপিণ্ড আছেনা!!
ওখানে খুব যন্ত্রনা হয়।
যন্ত্রনারা সারাক্ষণ নিস্পেশিত করে,
বেদনার আকাশ হরহামেশাই কাঁদে রাতের গহীনে।
জানি শুদ্ধ বিপ্লবের দরকার...
হৃদয়ে কেন এত অশুদ্ধ হাহাকার??
হামেশাই তপ্ততার ঘরে অবস্থান হোক দৃঢ়।
হিংসা,বিবাদ আর অবহেলার বিন্দু পেরিয়ে
উদার আকাশ আমার চাই।
উদার আকাশ চাইলেই পাওয়া যায়??
উদারতাকে ঠায় দেবার জন্য উদার হৃদয় থাকা চাই!!
সংকীর্ণ আর অমানুষীর পাথর সরিয়ে..
'মানুষ' হতে হবে এবার।
আর কত আলুথালু স্বপ্নে ঘুম যাবো??
'সময়' ডাকে অতি বিনয়ের সাথে,
অন্তরাত্মা পূর্ণ করতে হবে আবে জমজমে।
রক্তের ফোটায় ফোটায় হোক আরেকবার বিপ্লব!
আমার 'মানুষ ' হওয়াতেই হয়তো এখানে হবে শান্তির সয়লাব।
তবে তাই হোক!
নতুবা নেমে আসুক চিরঘুম...
চলে যাই পথের মধ্যখান হতে।
এ অযাচিত অবস্থানে যন্ত্রনা শুধু বেড়েই চলে,
বেদনার আকাশে অনবরত তারা ঝরে পড়ে।
তবে কেন 'মানুষ' হওয়া কিংবা প্রস্থানে কষ্ট লাগে??
-------------------------------------------------
স্বপ্নের গাঁথা...
...............ইয়াসমিন
ছোট্ট মনি,
ফুলের কুড়ি।
তুমি জাতির আশার বাতি।
তোমার মাঝে আছে
সম্ভাবনার অমর খনি।
বড় হবে তুমি..
'মানুষ' হবে ভালো,
শিক্ষার আলোয় নিজেকে রাঙাবে যত।
তোমার জ্ঞানের আলোয়
হবে ভুবন আলোকিত!
কল্যান নেই মিথ্যা বলায়,
তোমার জেগে ওঠায় হবে পৃথিবী সংশোধিত।
হিংসা অহংকারে নেই কোন বীরত্ব,
হয় শুধু দিলে কদর্যতার সমারোহ।
তুমি হবে সৎ, শুদ্ধ মানুষ!
তোমার সততার রোহে ভষ্মিত হবে অমানুষ।
ছোট্ট মনি..
তুমি হবে জ্ঞানের পিয়াসি।
তোমার গড়িমায় উঠবে প্রদীপ্ত রবি,
তোমার হাতেই হবে ন্যায়ের মুক্তি।
তুমিই হবে অমর সত্তার..
জানবাজ এক বীর সেনানী।
---------------------------------------
দৃঢ় প্রত্যয়ী, সংযোমী, আত্মঅনুতপ্ততার এক খন্ড তরী।
ভীষন দরকারী।
যাক দুর হয়ে যাক সমস্ত অভিনব মরিচীকা!
ছুটে চলায় দরকার আজ গতির তীব্রতা।
আত্মিক খাদ্যের অভাব বিরাজিত আজ এ তটে,
তবে কোন শক্তির ওপর ভর করে মাঝীরা ছুটে চলবে??
কি করে আলোর সয়লাব ঘটাবে??
কি করেই বা শান্তির চিহ্নু প্রফুষ্ঠিত হবে পালে পালে?
ভীষন দরকারী এক খন্ড অগ্রগামী তরবারি,
যার অস্তিত্বহীনতা তীব্রভাবে অনুভব করি।
যার অস্তিত্ব বদলে দেবে,
নিত্য তপ্তায় ঝলসানো পৃথবী ।
--------------------------------------------
(শ্রেষ্ঠ আশ্রয়)
শেকরবিহীন যেমন বৃক্ষ হয়না!
পরিবারের ছায়া ছাড়া তেমনি 'মানুষ' হওয়া যায় না।
সভ্যতার অত্যাধুনিক যুগে,
পরিবারের গুরুত্ব আজ শূণ্যের কোঠায়।
পশ্চিমাদের অনুকরণ করে আমরাও পা দিয়েছি মনুষ্যত্বহীন নৌকায়।
শেকর যেমন খাদ্য শোষন করে
বন্টন করে বৃক্ষের এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত।
তোমার আমার পরিবার সেই শিক্ষাই দেয়,
যাতে ভুলহীন থাকে জীবনের আদ্যপ্রান্ত।
স্রষ্টা দিয়েছেন পরিবার নামক বৃক্ষে অসীম রহমত,
চন্দ্র সূর্য যতদিন থাকবে
পারিবারিক কাঠামোও থাকবে ততদিন বলবৎ।
পরিবারের শিক্ষা শ্রেষ্ঠ শিক্ষা
যদি তাতে সন্নিবেশিত হয় স্রষ্টা প্রেমের দিক্ষা।
নিতে হবে হবে শিক্ষা, গড়তে হবে শ্রেষ্ঠ পরিবার
তবে এ পৃথিবী হবে শান্তি আর সুখের নিবাস।
--------------------------------------
.ডাক হরকরা ক্লান্ত শ্রান্ত হয়েছে,
তাই আর রাত্রি দ্বিপ্রহরে ছুঁটে বেড়ায় না।
দায়িত্বে প্রেম নেই বিরাজিত ঢিলেঢালা ভাব,
শরীরের ভাজে ভাজে যে অবিশ্বাসের বাস!
কি করে বুঝবে??
এখানে নিষ্ঠা প্রোথিত হলে রাত্রি শেষে সুসোম্য প্রভাতের দেখা মিলবে।
হরকারারই বা কি দোষ??
নিয়োজেন্তারাই বা কি শেখালো!
রাত্রি দ্বিপ্রহর হবার আগেই চোখে ঘুম নেমে এলো।
.
শেখাবেনা বলেই কি শিখবো না!!
তাহলে আবেগের একপাশে বিবেকের কি কার্জকারিতা???
আমি অনুতপ্ত, আমি ভালো
এগুলো বলে হরকরা তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলে,
যার শুদ্ধতা প্রদীপ্ত ভোরের বাতাস বওয়াতে পারেনা
তাকে কি আদৌ ফেলা যায় পরিবর্তনেয়ন্তা মানুষের কাতারে।
--------------------------------------
শুদ্ধ মানুষ হবার গল্প জানিনা,
কিভাবে শুদ্ধ হব তাও জানি অল্প!
তবে মনের মরমে ইচ্ছা প্রচন্ড।
শুদ্ধ হবো, শুদ্ধ করবো সমাজ এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত।
তুমি কি জানো??
তোমার মধ্যেও আছে পবিত্রতার মহাসমূদ্র!
সেই সমূদ্রের খানিক আগে শুধু ময়লার স্তুপ যৎসামান্য।
তুমি যদি তোল ঝড় হৃদ গগনে,
ধুলো, ময়লা যত অপবিত্রতা যাবে নিমিষেই উবে!
এ ঝড়ের তীব্রতাই শান্তি বয়ে আনবে তোমার চারপাশের জগতে।
আমরা জীবনকে রাঙাতে এসেছি এ ভবে,
আল্লাহর অমোঘ অমলীন রঙে।
যে সে পারেনা সেই রঙ মাখতে রুহানে!
আমরা পেয়েছি সুযোগ অসীম রহমত
চলো রঙিন হই সমস্ত লালসা রেখে পদতলে।
আর যে অবহেলার সময় নেই!
বেলা বয়ে যায়! এই বুঝি এলো এ বেধোরক জীবনের অন্তিমতা।
এখনই সময় শক্ত করবার ঈমানের সিলসিলা।
--------------------------------------
পর্ব#৫২
..দেহঘড়িতে ধরেছে ঘুন, পড়েছে সময়ের কালোচ্ছোটা;
অবয়বহীন পশুটা কবেই বেড়ে উঠেছে পড়িয়ে বিবেককে হাতকড়া।
আজ এ সমাজে, রাষ্ট্রে পশুত্বের অমানবিকতার জয় জয়কার রাজত্ব!
রক্ত হোলিতে নিত্যে মেতে অবয়বহীন থাকে সদা জাগ্রত।
...সময়ের হাতকড়া নির্মম মনে নিয়ে এবার বাজাতে হবে যে বিবেকের ঘন্টা!
হতে হবে জানবাজ ঘোড়সওয়ার,
বিপদের একপাশে নেজা মেরে ধারন করতে হবে ত্যাগের ঝান্ডা।
...এ সমাজ, রাষ্ট্র, সমগ্র পৃথিবী পশুত্বের কর্কশ গানে হয়েছে বধির,
এ সমাজ মুক্তির স্বাদ পেতে চায় ত্যাগীর তলোয়ারের শানে!
শাশ্বত বিধান বুকে নিয়ে কেন্দ্রে হতে হবে সুস্থির।
...সমাজ, মানবতার মুক্তির বিপ্লব শুরু হোক তবে স্বল্প পদক্ষেপের প্রশিক্ষণে!
ভেতরের বিকৃত কংকাল ভেঙে চুড়ে,
ইস্পাত প্রাচীর হিম্মত নিয়ে,
শুদ্ধ মানুষদের আলো পড়ুক রাষ্ট্রের আনাচে কানাচে।
আলোতে দৃশ্যায়িত অশুদ্ধতা উপরে ফেলবো শুদ্ধতার তীক্ষ্ণ ফলোকে।
প্রয়োজনে রক্ত দিয়ে, গৃহ থেকে বিতারিত হয়ে।
...যে দিন থেকে হবো আমরা আল্লাহর রঙের তুলির আস্তরণ,
ভালোবাসবো জীবনের চেয়ে জীবনের রাহবার,
সেদিন থেকেই এ পৃথিবী হবে জান্নাতের গুলশান।
---------------------------------------------
জীবন তরীর বাঁক কখন কোন দিকে??
কখনোই যায়না বলা নির্দিষ্ট করে।
আজ এখানে এই অবস্থায়!!
কাল কোথায় তা সর্বদাই থাকে অজানায়।
ভুলের গোলকে আমি এক ঘুরন্ত পথিক
এই বের হব হব করেও অবস্থান হয় গোলকের মধ্যক।
হৃদতন্ত্রীর কাঁপন মাঝে মাঝে বেশ বুঝি!
প্রত্যাবর্তনের পথ হন্য হয়ে খুঁজি।
আবার মাঝেমধ্যে তন্ত্রী থাকে বধীর, নিস্কর্মা;
শত চেষ্টার পরেও কেন জানি পবিত্র মানুষ হতে পারিনা!!
ওপারে আমার অবস্থান কি হবে জানিনা??
ভুলের গোলক মাড়াতে পারবো কিনা!
সেখানেও বিরাজ করছে ধূসরতার অস্পষ্টতা।
শুধু কামনা এটাই....
শেষ্টায় বলতে চাই...
লাব্বাইক লাব্বাইক লাব্বাইক ও আমার প্রিয়তম আল্লাহ।
----------------------------------------
নতুন করে আর কি লিখবো?সব গল্প, কবিতা ফিকে হয়ে গেছে.।আমি এক ঘুনে ধরা পুরানো কুঠির..সামান্য ঝড়ো হাওয়ায় মাটিতে মুখ থুবরে পড়ে যায়।মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর ক্ষমতা হারিয়ে...
তাই ডায়েরীর শেষ পাতায় আজ আমার অবস্থান।
অন্তিমকালে হৃদসাগরে বয় পূণ্যতার সমীরণ
কিংবা হয় পূণ্যতার ভেলায় যাত্রার পারম্ভন।
অথচ....
ডায়েরীর মাঝপাতাগুলোয় শোভা পায়
উঠতি রোমান্সের নীলসাগর কিংবা মহাসমূদ্র।
চাইলে অন্তঃপুরের রসালো বর্ণমালাগুলোকে পুড়িয়ে..
শুদ্ধতায় শুদ্ধ হয়ে রচন করা যেত আরেক সাতকাহন।
কিন্তু হায়!!
আমি এক ভ্রষ্ট সাতকাহনের অন্যতম চরিত্র..
হৃদমে এঁকেছি নষ্ট স্বপ্নের কল্পিত স্বপ্নগাঁথা।
গল্প, কবিতার তাৎপর্য আমার হলো না জানা।
অন্তিম ভেলায় ভেসে মন তো চায়..লিখি উমরের মহত্ব,
বদর বিন মুগীরার বুদ্ধিদীপ্ত পদচারণ!
ডায়েরীর মাঝপাতার ভ্রষ্টতার মাস্তি ক্ষমা দেবে কি ঐ মহাসম্রাজ্ঞ?
শুদ্ধ হয়ে আওয়াজ তোলার সময় আর নেই...
তাই করুনভাবেই বলি তোমাদের!
জেগে ওঠো..ঐ হৃদমে আর কয়লা জমতে দিওনা,
ঢালো তবে আবে জমজম!
নোঙর তোলো...জানিয়ে দাও!
আমরা বলবৎ, রচন করবোই ডায়েরীর পুরোটা জুড়ে আরেক সাতকাহন।
,,
#ডায়েরীর_শেষপাতা
----------------------------------------------
"যবনিকাপাত "
..
জীবনের যবনিকাপাত
এই বুঝি এলো!
কিন্তু আমি আজও এলোমেলো।
এই পথে রক্ত ঝরে, রক্ত কথা বলে,
আমি নিথর অথর্বো পাশ কেটে যাই রক্তের ঘ্রাণ নিয়ে।
এখানের আকাশে একসময় সিতার মেলা বসতো..
শুদ্ধ হাওয়ার ঢেউ খেলতো!
আমার অলসতা, কদর্যতার দরুন
সিতারাদের বীরত্বে হয়েছে কালি লেপণ।
আমি পারিনি পারিনা শুদ্ধ হাওয়ায় ফুল ফোটাতে,
আমি অনবরত ছাপ রেখে যাই লুলায়িত তাগুতের গোলাম হয়ে।
এখানে একসময় নীতির রাজ ছিল,
বৈষ্যমের বাধ গুঁড়িয়ে প্রথিত ছিল ভ্রাতৃত্ব।
আমি মানিনি...হাতে নিয়েছি ভাঙনের হাতিয়ার,
জোর করেই আদায় করবো বলে সম্মান।
অন্যায়ে সাঁতার কেটে ন্যায়ের চাদর পড়ে..
ফাঁকি দিয়ে থেকেছি বন্ধু বেশে।
নিজের রক্তে বিষ ঢেলে..
আজ অন্যের রক্তে গন্ধ খুঁজে ফায়দা কিসে???
ভাঙনের সয়লাব ঘটিয়ে...
আমার মত হাজারো আমি তৈরি করে,
আজ বুঝলাম করেছি কত বড় ভুলের গাছ রোপণ।
তাই সময় করেছে অনশন...
না হবে প্রত্যাবর্তন!
এখনি হয়তো হবে জীবনের যবনিকাপতন।
.
(১৩.৯.১৫)
-----------------------------------------
(নিপুণ শিল্পী) (পর্ব:৫০)
আকাশের নিপুণ কারুকাজ,
তারকারাজিরর জ্বলে ওঠা।
এমন সৌন্দর্য আছে কোন কারিগরের দক্ষ্যতাতে!!
কখনো কি জেগেছে মনে??
অবিরাম বর্ষণ..
অস্থিরতায় প্রশান্তির অনুরণন,
কে দেয় ভেবে দেখো কিছুক্ষন??
হাওয়া বয়,ভেসে যায় মেঘ,
নিদ্রা থেকে জেগে ওঠা...
বুঝতে পারো কি এটা কার ইশারা??
অসুস্থতায় সুস্থতার পরশ..
বৃক্ষের চির সবুজন্ততা,শীতে ঝরে পড়া,
একবার অন্তরমাঝে অংক কষে মিলিয়ে নাও না!!
এই মহাবিশ্বের গ্রহ নক্ষত্র, ছায়াপুঞ্জে
প্রতিষ্ঠিত কার আধিপত্যতা???
তিনি রাহমানুর রাহীম,
তিনি গাফুর ও গাফফার..
হাশরের দিন বলবৎ থাকবে কেবল তারই আরশে আজিম।
যিনি' হও'বললেই হয়ে যায়,
হতভাগা সেই যে তাকে করে অস্বীকার।
জীবন মৃত্যুর চাবি
মুষ্টিবদ্ধ করে আছেন যিনি,
হিসাব গ্রহনকারী,মুক্তিদাতাও তিনি।
আমার ভালোবাসার সমস্ত পুষ্পতা
তার জন্যই নির্ধারিত।
অযোগ্য আমি, ভুল করে তার কাছেই ফিরি
আমার, তোমার, সবার জন্য ক্ষমা ফেরি করেন তিনি।
------------------------------------------
...নিত্য যেথায় অন্ধকার হয় গভীর থেকে গভীর,
সেথায় সামান্য আলোর ঝলকানি তীব্র মনে হয়।
তাই হয় অন্ধকারেই বাস,
সল্প আলোতেই আত্মতুষ্টির বাহবা।
...অন্ধকারে বোঝার উপায় নেই কে মানুষ,কে পশু,কে অহেতুক?
আর এতো নিত্য গভীর অন্ধকার,এখানে সবই এক, একাকার।
আলোতেই দৃশ্যায়িত হয়!
আমি মানুষ! তুমি মানুষ! আমরা মানুষ!
অথবা এখনো মানুষের খোলসে অহেতুক।
...অন্ধকার আর চাইইনা!
আলোয় পা দুটো ছোঁয়াতে চাই,
দেখতে চাই আমি, আমরা মানুষ কিনা???
...অন্ধকার দুর করবো,
অন্ধকারের পাঁজরের গহীনে আলোর সয়লাব বয়ে দিবো।
এসো সাহস করে পা বাড়াই!
মুঠোয় মুঠোয় আলো নিয়ে,মুক্তির গান গাই।
-----------------------------------------
"শুদ্ধতার এক বিন্দু"
...সময়ের আস্তাকুড়ে কতগুলো কয়লা জমেছে,
বিশ্বস্ততা,শুদ্ধতায় তৃষ্ণা বেড়েছে।
নেত্রের জল শুকিয়েছে..
স্রষ্টা প্রেমের প্রদীপ নিভু নিভু হয়েছে।
অনুভুতির দরিয়ায় বয় দমকা হাওয়া,
প্রত্যাবর্তনের চেষ্টায় পড়েছে কিঞ্চিত ভাটা।
...সময়ের আস্তাকুড় রাঙাতে চাই,
শুদ্ধতার রঙ মেখে।
নিষ্ঠাতে নাই কোন শ্রম...
নিত্য চলাফেরায় বেসুরো গান বাজে হরদম।
ভুল জেনেও মরীচিকায় আছি বেশ মেতে।
....চঙমঙে গোলক ধাঁধায় আর নয়!
ভুলের সুতো কেটে,
হৃদয় গোলক রাঙাবো এবার শুদ্ধ শুভ্রতায়।
---------------------------------------
'মা'
মা'তেই শান্তি,
মা'তেই আমার শক্তি;
মা'কে ভীষন ভালোবাসি।
মা'হীন জগতে অন্ধকারের প্রগারতা,
মা ছাড়া আমার অস্তিত্বে বিরাজিত শূণ্যতা।
মা'কে দেই অনেক কষ্ট,করি জ্বলাতন,
তবুও বলবো মা'কে ভালোবাসি ভীষন।
মা'ই যে সকল আবদারের উৎস করেছে খনন।
মা'তেই সমস্ত ফুলের সুবাস স্পষ্ট,
মা'ছাড়া ধরণীর সব কিছুই নিরর্থ।
মা'কে যে বাসেনা ভালো!
তার অন্তরে জমেছে কয়লা কালো।
কিছুতেই পাবেনা সে জান্নাতের আলো।
মা'তেই পূর্ণতা,
মা'তেই শেষ হয় শূণ্যতা।
মা'তেই রাখো সমস্ত মুগ্ধতা!
তাহলেই পাবে স্রষ্টার রহমতের ঝর্ণাধারা।
--------------------------------------
( আসরর_৪৭)
"মা আমার বেহেস্ত"
মা'তে শুধুইই মমতা আর ভালোবাসা,
মা বিহীন কিছু যায় কি ভাবা??
আদর্শ 'মা' সে!!
আল্লাহর পথে সন্তানকে যে দেয় ঠেলে।
মায়ের ভালোবাসার দাম কিছুতেই হয়না সোধিত,
সুখ বিকিয়েই আমাদের করেছেন লালিত।
পরম স্রষ্টা 'মা'কে দিয়েছেন অনন্ত সম্মান,
আমরা হতভাগা বেহেস্ত পায়ে ঠেলে...
অন্ধ হয়ে গড়ে যাচ্ছি বৃদ্ধাশ্রম।
-----------------------------------
রাত ঘুমিয়েই থাকে...
তবুও অন্যায়, অপরাধের অংকুরোদগোম তখনই হয়।
আর দিনে!!
ডালপালা ছড়ায়।
অশ্লীলতার প্লাবন শুরু হয়েছে আমাদের এ তটে,
নোংরামীর গন্ধ স্পষ্ট।
যদি চাই শ্লীলতার বিন্দু ফোটাই যথেষ্ট।
চলো শ্লীলতা খুঁজি, খুঁজি সত্য!
আমি,তুমি, আমরাই পৃথিবীর অশ্লীল পাশটুকু সুগন্ধে মাখবো।
তাই সর্বপ্রথম আমাতেই পবিত্রতার আবে জমজম ঢালতে চাই,
শুদ্ধতায় সিদ্ধ হতে হতেই
অন্ধ, বোবাদের আলো দেখানো যায়।
সকল অন্যায়ের শুরুকর্তা যেমন আমরা,
মূলোৎপাটনকারীও হব আমরা।
বসুধায় পবিত্রার বাতাস বয়ে দেবো আমরা,
নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচন করবো আমরা।
----------------------------------
★★★মাধূর্যতার এক চিলতে রশ্মি★★★
নির্মম হলেও সত্য..!
আমরা মানুষ হিসেবে বুলি সর্বস্ব।
মুখে, লেখায় ওঠে ন্যায় নীতির ঝড়,
বাস্তবে, রণক্ষেত্রে মাধূর্যতার বড়ই অভাব।
যদি প্রত্যেকে অশালীন অন্ধকারের চাদর খুলে ফেলি,
ধৈর্য্য নিয়ে স্রষ্টারর অমোঘ নিয়মে জীবন গড়ি..
তবেই সমস্ত মাধূর্যতায় পূর্ণ হবে আমাদের পংকিল ধমনী।
.
কিন্তু!
আমরা উল্টো পথের দক্ষ্য অভিযাত্রী,
শৈশব, কৈশর, যৌবনের আজন্ম শিক্ষাও নৈতিকতার বিরোধী।
রঙিন চশমার তলে!
যুবসমাজের বিবেক কবেই চাপা পড়েছে,
বৈরী আকাঙ্ক্ষা মেটাতে জীবনের মানেই গেছে ভুলে।
..
পাপের সয়লাবে টইটুম্বুর এ স্নিগ্ধ সাগর,
চরিত্রহীনদের দুর্গন্ধতায় বাধ্য হয়ে করছি অবগাহন।
পাপ,অন্যায় হয়না স্থায়ী!
এসো নৈতিকতার মুকুট পড়ে আমরা হাল ধরি।
দুঃখের পরে যেমন দেখতে পাওয়া যায় সুখের অমলিন হাসি..
স্রষ্টার নিয়ম!
অন্ধকার মিশে শেষ প্রভাতে প্রফুষ্ঠিত হবে আলোর রশ্মি।
---------------------------------
..ভ্রাতৃত্বে ভালোবাসা বাড়ে, শক্তি বাড়ে;
ভীতির সঞ্চার করে কাপুরুষদের মনে।
.
...নির্ভেজাল ভ্রাতৃত্ববোধে, ঐক্যে থাকে স্রষ্টার রহমত,
সংখ্যাধিক্য হয়েও পরাজয়ের রশি পরাতে হয়না কারো হিম্মত।
...কিন্তু করুন পরিতাপের বিষয় আজ!
ইতিহাসে দেখেছি ভ্রাতৃত্বে চিহ্নিত হয়েছে কিছু গাদ্দারের হস্তাক্ষর;
সেখান থেকেই হয়েছে পরাজয়ের পারম্ভন।
...তবুও আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছি!
মুসলিমরাই যে ভ্রাতৃত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত,,
তাই জয় জয়কার রব উঠেছিল তাদের যেমন মুহাম্মদ বিন কাশিম।
...যদি হই সত্যিকারের মুসলিম!
ভ্রাতৃত্ব হবে অটুট..
অন্যায়, অসত্য হবে লুট।
ভ্রাতৃত্বের বিধান অবতারন করেছেন ঐ অপার মহা মহিম।
--------------------------------------
গলে মজে যেওনা..!
ভুলায়িত জনশ্রুত প্রেমে।
পাপী মন লুলায়িত করবেই
সীমালঙ্ঘণ করতে।
আলুলায়িত থেকে গচ্ছিত হওয়া যায়!
ভুল থেকে শুদ্ধতায় অবগাহনও করা যায়!
সদইচ্ছায় স্রষ্টা প্রেম থাকলে।
পাপী মনে ঢালো তবে আবে জমজম..
মুছে যাবে কয়লা কালো পুরো আস্তরণ।
আমি,তুমি, আমরা হব শুদ্ধতম!
------------------------------------
চাইনা সময় শেষে কাঁদতে!চাইনা এখন সময়কে ঠকিয়ে হাসতে।।সময়ের বদলা বড় কঠিন....বেলা শেষে যাতনা হবে অনন্তহীন!.
চাইনা বাকা পথে সুখ নিতে!
চাইনা নির্জনে কেউ নেই ভেবে
কল্পলোকে ভাসতে।।
তাকে কখনোই ফাঁকি যায়না দেয়া!
বেলা শেষে হিসেব হবেই কড়া।।
.
চাই বিনিত সমর্পণ করতে....
যা চলে গেছে সব মুছে,
শুভ্র সবুজে সাজতে হবে!
বেলা শেষে আমারই কাছে সুখের নহর বইবে।
.
চাইনা মূল্যহীন মন্ত্রে মন্ত্রমুগ্ধ হতে..
পাশে কেউ থাকুক চাই না থাকুক,
একলা পথ পাড়ি দিতে হবে।
পথের পথিক না হলে আলুথালু বন্ধুত্বে বিপদ বাড়ে।
.
'ভুল ’তো সময়ের একপাশে একটা গোলক!
প্রবেশ হতেই পারে যে কারো পথ পাড়ি দিতে গিয়ে।
বেরিয়ে হিম্মত সহকারে শ্বাস নিতে হবে পবিত্রতায় অবগাহন করে।।
বেলা শেষে মুকুট আসবে আমাদেরই হাতে!!
.
#বেলা_শেষে
-------------------------------------
পথের ধারেই প্রতিক্ষীয়মান..কিছু চটপটে সময়!আলিঙ্গনেই হবে হয়তো আরেকটু চঞ্চল।আবার পথের ধারেই প্রতিক্ষীয়মান..কিছু বোবা সময়!আলিঙ্গনেই মিলবে হয়তো অমৃত পেয়ালা,তাই মাড়াতে হবে একটু আধটু কাদা।
তবেই অন্তরে বয়িত হবে শীতল শান্তির ঝর্ণাধারা।
আমি ভুলে ভুলায়িত, তবুও আশাবাদি...
হতাশা যে আমার জন্য গুনাহ!!
পথের ধারেই প্রতিক্ষীয়মান. দু অবয়বের সময়!
আমি সরল সমীকরণেই সুখ খুঁজে নিতে চাই..
মাঝে মাঝে একটু তো দ্বিধাতে হারিয়ে যাই।
চটপটে সমীকরণের হাত ধরতে ভীষন মন চায়,
কিন্তু পাঁজরের ওমটুকু লুকিয়ে আত্মবুঝ দেই..
এ চটপটে রঙমহলে বিলিন হবার এজাযত যে আমার নাই।
তাই আশায় বুক বেধে....
নিজেকে বেধেছি সংযমে।
হৃদনোঙরের আকুলতা পৌছাতে চাই
আরশে মঞ্জিলে..।
.
#সময়ের_পদচারণ
-------------------------------------
নতুন করে আর কি লিখবো?
সব গল্প, কবিতা ফিকে হয়ে গেছে.।
আমি এক ঘুনে ধরা পুরানো কুঠির..
সামান্য ঝড়ো হাওয়ায় মাটিতে মুখ থুবরে পড়ে যায়।
মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর ক্ষমতা হারিয়ে...
তাই ডায়েরীর শেষ পাতায় আজ আমার অবস্থান।
অন্তিমকালে হৃদসাগরে বয় পূণ্যতার সমীরণ
কিংবা হয় পূণ্যতার ভেলায় যাত্রার পারম্ভন।
অথচ....
ডায়েরীর মাঝপাতাগুলোয় শোভা পায়
উঠতি রোমান্সের নীলসাগর কিংবা মহাসমূদ্র।
চাইলে অন্তঃপুরের রসালো বর্ণমালাগুলোকে পুড়িয়ে..
শুদ্ধতায় শুদ্ধ হয়ে রচন করা যেত আরেক সাতকাহন।
কিন্তু হায়!!
আমি এক ভ্রষ্ট সাতকাহনের অন্যতম চরিত্র..
হৃদমে এঁকেছি নষ্ট স্বপ্নের কল্পিত স্বপ্নগাথা।
গল্প, কবিতার তাৎপর্য আমার হলো না জানা।
অন্তিম ভেলায় ভেসে মন তো চায়..লিখি উমরের মহত্ব,
বদর বিন মুগীরার বুদ্ধিদীপ্ত পদচারণ!
ডায়েরীর মাঝপাতার ভ্রষ্টতার মাস্তি ক্ষমা দেবে কি মহাসম্রাজ্ঞ?
শুদ্ধ হয়ে আওয়াজ তোলার সময় আর নেই...
তাই করুনভাবেই বলি তোমাদের!
জেগে ওঠো..ঐ হৃদমে আর কয়লা জমতে দিওনা,
ঢালো তবে আবে জমজম!
নোঙর তোলো...জানিয়ে দাও!
আমরা বলবৎ, রচন করবোই ডায়েরীর পুরোটা জুড়ে আরেক সাতকাহন।
.
#ডায়েরীর _শেষপাতা
-----------------------------------------
আমি এক হতভাগা পথচারী!বক্র পথেই হয়েছে রাত্রি।নিস্তব্ধতায় একলা বিহনে..রঙিন হই আলুথালু চিন্তার অবগাহনে।হৃদয়েও পড়েছে বক্রতার ছাপ
একটু আকটু অনুতপ্ততায়ও হতে পারিনি অন্ধকার পার।
মনের আঙিনায় জমেছে আজ ধুলোর আস্তরণ
জানিনা কবে করতে পারবো প্রত্যাবর্তনের আবেদন।
এক পা দুপা করে খুলেছে বিবেকের মুদিত আঁখি
তাই হৃদপ্রকোষ্ঠে বেড়েছে দহনের কম্পনের গতি।
প্রচণ্ড ইচ্ছাম বয় এ হৃদমে.....
বুভুক্ষু তৃষ্ণার্ত আমি খুবই....
সকল যাতনা..সুখময় বাসনা কবর দিয়ে যেতে চাই স্বপ্ন বাড়ি।
.
.
#স্বপ্ন_বাড়ি.
---------------------------------
ভুলোমনে অজানায় দিক বেদিক ছুটে চলা,
আলোর পরশে নয় অন্ধকারেই হয়েছে অনুভুতি চঞ্চলা।
কাকড়কে নুড়ি ভেবে চলেছি দৌড়িয়ে,,
অমৃত নয়, শরীরে পুশিত মন্দের তীব্র ইনজেকশন।
নিদ্রা..জাগরণ সবই এক একাকার!
উগ্র উচ্ছলতার নেশায় শুরু হয়েছে বিষক্রিয়া,
ছুটছি তো ছুটছি নেশায় লেগেছে মরণকামড়!
অনিশ্চিত গন্তব্যে জমেছে ভাবের আস্তরণ।
ঝুম বৃষ্টিতে উড়িত ধুলো যায় মাটিতে মিশে,
থাকে মুখ থুবরে...
হবে কি মোচন নেশার বিষক্রিয়ার প্রেম?
পাওয়া যাবে কি জ্যোৎস্না বর্ষিত রাত দিনান্তে??
-------------------------------
বিদ্রোহী রণবীর..
সময়ের আকুল আবেদন..
জন্ম হোক আর একজন নজরুলের,
বিদ্রোহের আগুনে পুড়ে ছাই হোক অন্যায়ের কালো জিহবা।
সাম্যের গানে এক হয়ে যাক ধনী গরীব আর মজলুম।
কলমের কালিতে ঝরুক বারুদের আগুন!
ভষ্ম হোক..প্রগতিবাদীদের নোংরা হোলী খেলা।
আসবে কি আর একজন নজরুল???
দেশ ও সমাজ পরিবর্তনের ভেলায় পা দিলে..
পুষ্পিত পৃথবীর স্বপ্ন নিয়ে এগুলে,
হাজারো নজরুল জন্মবে তখন ঘরে ঘরে।
-------------------------------------
তামাশা দেখবে তামাশা!!
তাহলে আসো এই মুজিবীয় দেশে..
হাটো কিছুক্ষণ,
দেখতে পাবে..অফুরান তামাশা,
হিস্রতার তামাশা,
মিথ্যার তামাশা,
নাটকের তামাশা।
নিপুণ অভিনেত্রীরর তামাশা।
তামাশাতারুতায়..দেশ পূর্ণ,
যৌবন পেরিয়ে..
প্রবীন হবার পথে।
----------------------------------
স্পষ্টতই অস্পষ্টতায় ঢেকে যাওয়া..
হৃদয়বিনার সুরগুলো আজ বড্ড বেসুরো।
সুর বেসুরেই বা কি আসে যায়?
ভুল তো ভুলই!
স্পষ্টতই অস্পষ্টতারর গহবরে হাতরে ফেরা...
অনুভুতিগুলোর চঞ্চলতায় কন্টকেরা করে খেলা।
আলো আঁধারীর প্রেম চিরন্তন,
তবুও আঁধার আঁধারই!
আলোতে পা ফেলার সুখ...বোঝা, ধরে রাখা,
হৃদকম্পনগুলোর স্থিরতা।
আঁধারে মিলতে পারেনা।
স্পষ্টতই অস্পষ্টতায় সেজে গুঁজে..
কি আনন্দ উল্লাস!
ওপারের চিরন্ততা ভুলে, এপারেই করে যাচ্ছি
সুখ বিলাস।
স্পষ্টতই অস্পষ্ট সব..
জেনে না মেনে, বুঝে না বোঝার ভানে..
সরলতার ছোঁয়ায় আজ এই পর্যন্ত।
----------------------------------------